দর্শনে ক্রীসমাস এবং ইসলামে দিক নির্দেশনা

Dec 24, 2011 at 5:25 am in ইসলাম ও জীবন by বরষা

দর্শনে ক্রীসমাস এবং ইসলামে দিক নির্দেশনা

ক্রীসমাসে আজকের দিনে বিশ্বব্যাপী জাকঝমকপূর্ণ কর্মসূচী উদযাপন হয়ে আসছে। এই দিনে আমরা মুসলমান হিসেবে আমাদের করণীয় কি? বিসত্মারিত আলোচনা সংক্ষিপ্ত আকারে বুঝানোর চেষ্টা করবো ইনশাআলস্নাহ। এখন মূল আলোচনায় আসা যাকঃ-

আলস্নাহর প্রশংসা করে শেষ করার উপায় নেই যে তিনি আমাদেরকে দ্বীন ইসলামের অনুসারী হওয়ার তাওফিক দান করেছেন। আলস্নাহর কাছে গ্রহণযোগ্য একটি মাত্র ধর্ম। আর তা হচ্ছে ইসলাম। তিনি ইরশাদ করেছেন, ‘‘ইন্নাদ্দীনা ইন্দালস্নাহিল ইসলাম। অর্থাৎ আলস্নাহর কাছে গ্রহণযোগ্য একমাত্র ধর্ম হচ্ছে ইসলাম-(আল ইমরান ১৯)। -তিনি আরও ইরশাদ করেছেন : ‘যে কেউ ইসলাম ছাড়া অন্য কোন ধর্ম তালাশ করে কস্মিনকালেও তা গ্রহণ করা হবে না; এবং সে হবে আখেরাতে ক্ষতিগ্রসত্ম-(আল ইমরান : ৮৫)।

ইসলামের অনুসারী হওয়ার কারণে আজ প্রকৃত রবকে আমরা চিনতে পেয়েছি। যে আলস্নাহ আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন, জন্ম, মৃত্যু যাঁর হাতে, যিনি রিযকদাতা এবং সকল কল্যাণ এবং অকল্যাণের চাবিকাঠি যাঁর হাতে, সে মহান রাববুল আলামীনকে একমাত্র মা’বুদ হিসেবে ইবাদত করার সুযোগ পেয়ে ধন্য হতে পেরেছি আমরা। দুনিয়ার অন্যান্য মানবগোষ্ঠী অন্যান্য ধর্মের অনুসারী হওয়ার কারণে আজ প্রকৃত রবকে আমরা চিনতে পেয়েছি। যে আলস্নাহ আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন, জন্ম, মৃত্যু যাঁর হাতে, যিনি রিযকদাতা এবং সকল কল্যাণ এবং অকল্যাণের চাবিকাঠি যাঁর হাতে, সে মহান রাববুল আলামীনকে একমাত্র মা’বুদ হিসেবে ইবাদত করার সুযোগ পেয়ে ধন্য হতে পেরেছি আমরা। দুনিয়ার অন্যান্য মানবগোষ্ঠী অন্যান্য ধর্মের অনুসারী হওয়ার কারণে আজ আপন সৃষ্টিকর্তা মাবুদ বানিয়ে নিয়েছে। কেউবা আলস্নাহর কোন নবীকে যিনি এসেছিলেন মানুষকে একমাত্র আলস্নাহর ইবাদতের দিকে ডাক দিতে, আলস্নাহকে পরিত্যাগ করে সে নবীকে আলস্নাহর সমত্মান বা স্বয়ং মাবুদ বানিয়ে তারই ইবাদত শুরম্ন করে দিয়েছে। আলস্নাহর একমাত্র ধর্ম ইসলামকে গ্রহণ না করার কারণে পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষ আজ প্রকৃত মা’বুদ সম্পর্কে প্রচন্ডভাবে বিভ্রামত্ম। বিভ্রামত্ম এ মানবতাকে ইসলামের পরিচয় তুলে ধরে বিভ্রামিত্মর অন্ধকার গলিপথ থেকে আলোর পথে নিয়ে আসার দায়িত্ব দিয়েছেন আলস্নাহ তা’আলা মুসলিম জাতিকে। তিনি ইরশাদ করেন, তোমরা হচ্ছ এক উত্তম জাতি। তোমাদের উদ্ভব ঘটানো হয়েছে মানবজাতির কল্যাণের উদ্দেশ্যে। তোমরা সৎকর্মের আদেশ করবে ও অসৎকর্ম থেকে বাধা প্রদান করবে।-(আল ইমরান : ১১০)

যে মূল দায়িত্ব আমাদেরকে প্রদান করা হয়েছে; তা কি আমরা সত্যিকারভাবে পালন করছি। সে দায়িত্ব পালন তো দূরের কথা, আমরা অনেকে আজ ইসলাম সম্পর্কে নিজেরাই গাফিল। দুনিয়ার পেছনে অন্যান্যদের মত মুসলমানরাও ছুটে চলেছে। দ্বীনের জ্ঞান অর্জন করা, দ্বীন আমলের চর্চা করার গুরম্নত্ব দিতে আমরা চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছি। দ্বীন সম্পর্কে গাফিলতি মুসলমানদের অনেকের এমন পর্যায়ে পৌছে গেছে যে অন্যদেরকে দ্বীন ইসলামের দাওয়াত দেয়াতো দূরের কথা, নিজেরাই আজ বাতিল দ্বীন সমূহের দাওয়াতের টার্গেট হয়ে আছে। আমাদের ঘরে ঘরে জহুভা উইটনেস এবং অন্যান্য মিশনারীরা দাওয়াত নিয়ে আসছে, এটাই দুনিয়ার নিয়ম। দাওয়াত দেয়ার কাজে ব্যসত্ম না থাকলে দাওয়াত পেতে হবে। এ দুনিয়ায় নিরপেক্ষ হয়ে বসে থাকার কোন উপায় নেই। হক এর দাওয়াত না দিলে বাতিলের দাওয়াত পেতে হবে। আমাদের কোমলমতি ছেলেমেয়েরা স্কুল কলেজে ক্রীসমাসের যাবতীয় অনুষ্ঠান সমূহে আগ্রহের সাথে যোগদান করে ক্রীসমাস উদযাপন করছে। ছেলেমেয়েদের হক বাতিল বুঝার তো কোন জ্ঞান নেই। ‘‘তামাশা আছে যেখানে, তারা থাকবে সেখানে’’ এটাই স্বাভাবিক। এখানেই আসে পিতামাতা ও অভিভাবকদের দায়-দায়িত্বের প্রশ্ন। ক্রীসমাস উদ্যাপনের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা মুসলমানদের জন্য আদৌ জায়েয নয়। কারণ আলস্নাহ তা’য়ালা আমাদেরকে মাত্র দুটো উৎসব দিয়েছেন উদ্যাপনের জন্য। আর তা হচ্ছে ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আযহা। দ্বিতীয়ত, যে বিশ্বাস ও দর্শনের ভিত্তিতে ক্রীসমাস পালিত হয়, তা সম্পূর্ণ শিরক আক্বিদা ও বিশ্বাস। মরিয়ম পুত্র ঈসা (আ:) কে আলস্নাহর পুত্র বা শেষ পর্যমত্ম আলস্নাহর আসনে সিয়ে তাঁর ইবাদতের ভিত্তিতেই পালিত হচ্ছে ক্রীসমাস। এ ধারণার উপর প্রতিষ্ঠিত থাকার কারণে ক্রীসমাসের যাবতীয় অনুষ্ঠানাদি শিরক মিশ্রিত। কাজেই শিরক চর্চার যে কোন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ কি করে জায়েয হতে পারে! নবী করীম (সা:) ইরশাদ করেছেন, ‘‘যে অন্য কোন জাতির অনুকরণ করে সে তাদের মধ্যেই পরিগণিত হবে’’- (আবু দাউদ, আহমদ)।

অনেকেই মনে করেন আমাদের ছেলেমেয়েরা ক্রীসমাসের পার্টিতে যাবে, অন্যরাও আমাদের ঈদ পার্টিতে আসবে, তাতে অসুবিধা কি? অন্যরা ঈদ পার্টিতে আসলে যদিও অসুবিধা না থাকে। কিন্তু মুসলমানদের জন্য এসব শিরক ভিত্তিক পার্টিতে যোগদান করা জায়েয নয়। আলস্নাহ তা’য়ালা ইরশাদ করেছেন, ‘‘লাকুম দ্বী-নুকুম ওয়ালিয়া দ্বীন।’’ শুধু স্কুল কলেজে নয়। আজ ক্রীসমাস উপলক্ষ যে হলি ডে পালিত হবে সে সময় আমাদের সমত্মান-সমত্মতিরা কি করবে? অধিকাংশ সময়ই টেলিভিশনে ক্রিসমাসের আকর্ষণীয় প্রোগ্রামসমূহ তাদের সময় কাটানোর একমাত্র সঙ্গী হবে। আবারও বলতে হয়, ‘‘তামাশা আছে যেখানে তারা থাকবে সেখানে’’ এটাই স্বাভাবিক। তাদেরকে এ অবস্থা থেকে উদ্ধার করতে হলে হলিডে উপলক্ষ তাদের জন্য বিভিন্ন গঠনমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। ক্রীসমাস উপলক্ষ বিভিন্ন মসজিদ, ইসলামিক সেন্টার ও ইসলামী চিমত্মাবিদগণ ক্রীসমাসের বিসত্মারিত ইতিহাসে তথ্যবহুল আলোচনা তুলে ধরে সমাজকে সচেতন করে তুলার জন্য মুসলমানদের গুরম্নত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। নতুন প্রজন্মের কাছে ক্রীসমাসের ইতিহাস তুলে ধরা আজ সময়ের দাবী। আমাদের ছেলেমেয়েদেরকে সে সব অনুষ্ঠানে যোগদানের ব্যবস্থা করে ইসলামী মন মানসিকতা গঠন ও অজ্ঞান অর্জনের সুযোগকে কাজে লাগাতে হবে। অভিভাবকগণ যত বেশি পারেন সমত্মান-সমত্মতির সঙ্গ দেবেন। তাদেরকে সহ পারিবারিকভাবে বেড়াতে নেয়ার ব্যবস্থা করবেন। সর্বোপরি তাদেরকে ক্রীসমাস, বিশেষ করে আলস্নাহর নবী ঈসা (আ:) সম্পর্কে সঠিক তথ্য ও জ্ঞান দানের চেষ্টা করতে হবে। কুরআনের আলোকে ঈসা (আ:) ও তার মা মরিয়ম (আ:)’র সত্য কাহিনী তুলে ধরতে হবে। ইহুদি জাতি যখন আলস্নাহর নবী ঈসা (আ:)কে জারয সমত্মান ও তাঁর মহিয়ষী মার চরিত্রেও কলংক লেপন শুরম্ন করে, তখন নিরূপায় খৃষ্টানদের কেউ কেউ মরিয়ম ও ঈসা (আ:) থেকে কলঙ্কের গস্নানি দূর করার জন্য শেষ পর্যমত্ম ভার্জিন ম্যারীর (কুমারী মরিয়ম) ইনতিকলের অনেক পর যোশেফ নাজ্জার নামে এক স্বামী আবিস্কার করে বসল। এসব মিথ্যা কাহিনীর মোকাবিলায় আমাদের কোমলমতি শিশু কিশোরদের সামনে কুরআনের সত্য কাহিনী ফুটিয়ে তুলতে হবে। তাওহীদের মর্মকথা তাদের হৃদয়ে গ্রোথিত করতে হবে। ঈসা (আ:) সহ সমসত্ম নবীরা আলস্নাহর বান্দাহ। কেহই আলস্নাহর পুত্র নন। পিতা ছাড়াই বিশেষ কুদরতে তিনি মরিয়ম পুত্র ঈসা (আ:)কে সৃষ্টি করেছেন। যেমনটি তিনি পিতামাতা উভয়কে ছাড়াই সৃষ্টি করেছেন আদম (আ:)কে। এ বিষয়ে আলস্নাহ তা’য়ালা ইরশাদ করেন, ‘‘নিঃসন্দেহে আলস্নাহর নিকট ঈসা (আ:)’র দৃষ্টামত্ম হচ্ছে আদম (আ:)’রই মত। তাঁকে মাটি দিয়ে তৈরী করেছিলেন। এরপর তাঁকে বলেছিলেন হয়ে যাও। তিনি সঙ্গে সঙ্গে হয়ে গেলেন।-(আল-ইমরান:৫৯)

অন্য ধর্মাবলম্বীরা তাদের ধর্মীয় বিষয় কিভাবে উদ্যাপন করবে, তা আমাদের সমালোচনার বিষয় নয়। তবে, আমাদেরকে হক্ব দ্বীনের আক্বীদা-বিশ্বাস অনুযায়ী আমাদের ছেলেমেয়েদের গড়ে তোলার যে দায়িত্ব আলস্নাহ পাক দান করেছেন, সে দায়িত্ব পালনে গাফলতি করলে দুনিয়া ও আখেরাতে তার পরিণতি হবে অত্যমত্ম ভয়াবহ। আলস্নাহ তা’আলা আমাদেরকে সে দায়িত্ব পালনে সজাগ থাকার তাওফিক দিন। আমীন

লেখকঃ শিক্ষাবিদ ও কলামিষ্ট

                                                                                     

                                                                     মুহাম্মদ মনজুর হোসেন খান

                                                                                        বি,এ অনার্স, এম, এ (ইসলামের ইতিহাস) এম, এ (ইংরেজী)

                                                                                                পাঠানপাড়া (খানবাড়ি) কদমতলী, সদর, সিলেট-৩১১১

                                                                                                         মোবাঃ ০১৭৪২-৭৬৩৬২২

0 responses to দর্শনে ক্রীসমাস এবং ইসলামে দিক নির্দেশনা

Leave a reply

You must be logged in to post a comment.